শনিবার

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ‘পেনগান’, উদ্বেগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩৯

শেয়ার

ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ‘পেনগান’, উদ্বেগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো
ছবি সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় অপরাধ জগতে অত্যন্ত ক্ষুদ্র কিন্তু প্রাণঘাতী নতুন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ‘পেনগান’-এর ব্যবহার বাড়ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা। সম্প্রতি পুরান ঢাকায় একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এই অস্ত্র ব্যবহারের পর বিষয়টি সামনে আসে। ৭ এপ্রিল লালবাগের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে এ ধরনের একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাধারণ কলমের মতো দেখতে এবং সহজে পকেটে বহনযোগ্য এই অস্ত্রটি মূলত গুপ্তচরবৃত্তি বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে এখন এটি অপরাধীদের হাতেও পৌঁছে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চোরাই বাজারের মাধ্যমে পেশাদার অপরাধীরা এসব অস্ত্র সংগ্রহ করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা পেনগানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় ইঞ্চি। এর মাথার অংশ পিতলের তৈরি এবং কলমের ক্লিপের মতো অংশটি ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। নিচের অংশ খুললে ভেতরে শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বুলেট প্রবেশ করানো যায়। অস্ত্রটি থেকে একবারে একটি গুলি ছোড়া সম্ভব। গ্রেফতার আসামিরা এটি প্রায় ৮০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেছিল বলে জানিয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় সংঘটিত একটি গুলির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় যুবদল নেতা রাসেলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তাকে একটি বাসায় ডেকে নিয়ে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু এবং সাইমন নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে ডিবির লালবাগ বিভাগের একটি দল। তাদের কাছ থেকেই অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে অস্ত্রটির উৎস, পাচার রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, নয়াবাজারের ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। ধারাবাহিক অভিযানে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং অস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্র ঢাকায় ব্যবহারের পূর্ব রেকর্ড নেই বলেও জানান তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, অস্ত্রটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করেছে। তবে এতে কোনো কোম্পানির লোগো বা শনাক্তযোগ্য চিহ্ন না থাকায় এর উৎপত্তি নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোয়েন্দারা বলছেন, আধুনিক নগর অপরাধে বড় আগ্নেয়াস্ত্রের বদলে সহজে লুকানো যায় এমন ক্ষুদ্র অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। লিপস্টিক, মানিব্যাগ বা বেল্টের মতো সাধারণ জিনিসের আড়ালে থাকা এসব অস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।



banner close
banner close