দেশে গত মার্চ মাসে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে নৌ ও রেলপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
শনিবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ। এ খাতে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাসে ৪৫ জন, ট্রাক, পিকআপ ও ট্রাক্টরে ২৮ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ৪৬ জন, তিন চাকার যানবাহনে ৯৪ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩ জন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং ৮২টি পেছন থেকে ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। স্থানভিত্তিক হিসেবে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৬২টি শহরের সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি এবং তিন চাকার যানবাহন ২০০টি, যা মোট সম্পৃক্ত যানবাহনের বড় অংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক গড় মৃত্যু ছিল ১৫ দশমিক ৪২ জন, যা মার্চে বেড়ে ১৭ দশমিক ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সে হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি প্রায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষণে সংস্থাটি বলেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি একটি প্রধান কারণ। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের দুরবস্থা, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা এবং শারীরিক ও মানসিক অযোগ্যতাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার এবং চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন:








