শনিবার

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের ‘পুরোনো’ ভয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫৮

শেয়ার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের ‘পুরোনো’ ভয়
ছবি: সংগৃহীত

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নতুন পথ দেখাচ্ছে। তবে একইসঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া আবারও সীমিত কিছু এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শ্রমবাজার নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বিশ্বাসযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। যেটি আবারও নির্দিষ্ট সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমেই এই শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের বার্তা দেয়। পাশাপাশি শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণের কথা এসেছে, যা বাস্তবায়ন দুরূহ ব্যাপার।

সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আর আগের মতো নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসছে আমূল পরিবর্তন। মালয়েশিয়া সব দেশের কর্মীদের জন্য একটি প্রযুক্তি-নির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা এবং নিয়োগের যাবতীয় খরচ যাতে নিয়োগকর্তারাই বহন করেন তা নিশ্চিত করা।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চললে আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে পারে। কারণ ওই চুক্তিতে যোগ্য এজেন্সি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা মালয়েশিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। এটি হলে অতীতের সেই বিতর্কিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি হবে।

আবারও সিন্ডিকেটের কবলেই পড়তে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের মন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে- ‘বিশ্বাসযোগ্য’ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চলমান মামলা প্রত্যাহার, শূন্য অভিবাসন ব্যয় প্রভৃতি। আসলে এসব নাটকের মাধ্যমে আগের মতো এজেন্সি সিন্ডিকেটের দিকেই যাচ্ছে বর্তমান সরকার

মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বায়রা

২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তির বাজার বন্ধ বাংলাদেশের। ওই বছর মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১ মে-এর মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না।

ওই তারিখের পর থেকে আর কোনো কর্মী যেতে পারেননি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায়-দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।



banner close
banner close