ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএনআই।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রণয় ভার্মা (আইএফএস: ১৯৯৪), বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয়কে ব্রাসেলসে নেওয়ার উদ্যোগের কথা সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম বলা হচ্ছিল। গত ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে সেখানকার দায়িত্ব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হতে পারে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই এফটিএ ভবিষ্যত-উপযোগী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করবে, যা ভারতের নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।
ইউরোপের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার ফলে ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় উৎপাদকদের সংযুক্তি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ চুক্তিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)। এবং আঞ্চলিক শিল্প ক্লাস্টারগুলোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৫ লাখ কোটি রুপি (১৩৬.৫৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৬.৪ লাখ কোটি রুপি এবং আমদানি ছিল ৫.১ লাখ কোটি রুপি।
একই সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.২ লাখ কোটি রুপি (৮৩.১০ বিলিয়ন ডলার), যা দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত। একসঙ্গে তারা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
ভারত সরকার মনে করছে, এই চুক্তি দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে আসার আগে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের ১৯৯৪ ব্যাচের এ কর্মকর্তা তার আগে হংকং, স্যান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে হ্যানয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হয়ে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন তিনি।
এর আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের পরমাণু কূটনীতি নিয়ে কাজ করা অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগের যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণয় ভার্মা। যন্ত্রকৌশলে স্নাতক করা প্রণয় ভার্মা ফরেন সার্ভিসে আসার আগে টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার উপর স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:








