শুক্রবার

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০১

শেয়ার

ব্যাংকিং খাত সংস্কারে উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরের অবস্থানের মতো শক্ত ভিত্তিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজার উন্নয়নের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্বভিত্তিক অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমিয়ে আনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা হবে। মধ্যমেয়াদি বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রণয়নে একটি ডায়নামিক ম্যাক্রো-ফিসকাল মডেল উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

সরকারের অগ্রাধিকার

অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরেন—

১. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. রাজস্ব সংস্কার: করজাল সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা।

৩. পাচার হওয়া অর্থ ফেরত: এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

৪. বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং সহনীয় সুদে ঋণ নিশ্চিতের উদ্যোগ।

৫. সামাজিক সুরক্ষা: শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানব উন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তৃতি।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রী জানান, মূলধন গঠনে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্বাধীনতা দেওয়া, বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অতীতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া করপোরেট বন্ড, সুকুক ও গ্রিন বন্ড চালুর মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে বহুমাত্রিক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ভোগের স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রেখে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।



banner close
banner close