জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে কয়েকজনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং কয়েকজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। এছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ও এসআই নয়নকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ১০ বছর এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকেও ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে ৩ থেকে ৫ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন খালাস পেয়েছেন।
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ এবং তার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, মামলায় ২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং নিহতের বাবা মকবুল হোসেনও ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর নগরীতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যরা আবু সাঈদকে লাঠিপেটা ও গুলি করে হত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। একই ঘটনায় আহত হন আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয় এবং পরে আসামিপক্ষ খালাস প্রার্থনা করে।
মামলাটিতে মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অধিকাংশই পলাতক রয়েছেন।
আরও পড়ুন:








