বৃহস্পতিবার

৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ১২ লাখ নতুন দরিদ্রের আশঙ্কা: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০২

শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশে ১২ লাখ নতুন দরিদ্রের আশঙ্কা: বিশ্বব্যাংক
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর এপ্রিল সংস্করণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা বিভিন্ন সূচকের অবনমন এবং ঝুঁকির দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে দেশে দারিদ্র্যের হার ঊর্ধ্বমুখী। ২০২২ সালে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ দারিদ্র্যের হার ২০২৫ সালে বেড়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। একই বছরে নতুন করে ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে চলতি বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় মাত্র ৫ লাখ মানুষ সেই সীমা অতিক্রম করতে পারবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যেই থেকে যাবেন।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমবাজারে কম মজুরি, কর্মসংস্থানের ধীরগতি এবং আয় বৈষম্য বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি কমে যাবে এবং বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দেশের অন্তত ছয়টি খাতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চলতি হিসাবের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হওয়া, নতুন করে দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, ভর্তুকি ব্যয়সহ আর্থিক চাপ বৃদ্ধি এবং আয় বৈষম্য বিস্তার।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে, যা পূর্বে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বহির্বিশ্বের চাপ এ নিম্নগতির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেমের মতে, রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়া, বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ এবং দারিদ্র্য কমার ধীরগতি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। রাজস্ব খাতে সীমাবদ্ধতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সীমিত নীতিগত সক্ষমতা, দুর্বল ব্যাংকিং খাত এবং সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং সংস্কার কার্যক্রম জোরদার হলে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।



banner close
banner close