বুধবার

৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২৫ চৈত্র, ১৪৩২

শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৫

শেয়ার

শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
ছবি সংগৃহীত

অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলি ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-এ আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল)। দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ আবেদন জমা দেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়কালে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের কর্মস্থল বেছে নেন। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব বদলি বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের অফিসে সমমানের কর্মকর্তাদের পদায়নের বিধান থাকলেও তা উপেক্ষা করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তাদের উচ্চ গ্রেডে পোস্টিং দেওয়া হয়। অন্যদিকে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো কর্মকর্তাদের নিম্ন গ্রেডে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলির শিকার হতে হয়েছে।

এছাড়া, যোগদানের আগের দিনই পুনরায় বদলির নির্দেশ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে বদলি ও পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞপ্তির আগেই শত শত বদলিতে বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হয় এবং বিজ্ঞপ্তি জারির পর আর কোনো বদলির আদেশ দেওয়া হয়নি।



banner close
banner close