ঢাকায় নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক মন্ত্রী বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসায় উঠেছেন, আর বাকিরাও দ্রুত সময়ের মধ্যে উঠবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যা আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য ইতোমধ্যে তাদের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন। খুব শিগগিরই আরও ১০ থেকে ১৫ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বাসায় উঠবেন। মন্ত্রীদের আবাসন মূলত ঢাকার হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকায়, যা ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নাহিদ উল মোস্তাক জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে যারা বাসার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তারা বরাদ্দপত্র গ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভায় মোট ৫৮ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র তিনজন বাদে প্রায় সবাই সরকারি বাসার জন্য আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানসহ কয়েকজন মন্ত্রী বাসায় বসবাস শুরু করেছেন।
সরকারি সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ঠিকানায় বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডে অবস্থিত ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এর ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে তিনটি ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্যদের জন্য শেরেবাংলা নগর ও পশ্চিম নাখালপাড়ায় মোট ২৬৫টি সরকারি বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। ৩৫০ জন এমপির মধ্যে যাদের ঢাকায় নিজস্ব বাসা নেই, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম পর্যায়ে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের বাসা বুঝিয়ে দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এমপিদের সরকারি বাসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেগুলো সংস্কার করে পুনরায় বসবাসযোগ্য করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-য় উঠবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় যমুনায় কোনো সংস্কার কাজ শুরু করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে সেখানে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন:








