সোমবার

৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩ চৈত্র, ১৪৩২

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২১

শেয়ার

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের পাম্প ও ডিপোগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সরকার একদিকে সংকট না থাকার কথা বললেও অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিস ও দোকানপাটের সময়সূচিতে পরিবর্তনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজি ও তেল উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে, যা রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তবে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া, এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং বা লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে লোডশেডিং ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে গড়ে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলেও এলএনজি কার্গো কমে গেলে তা আরও হ্রাস পাচ্ছে। একই সময়ে সার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গ্যাস সরবরাহের একটি অংশ শিল্পখাতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট, তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সরবরাহের অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট, যা ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সেচ মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী দুই মাস বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ।



banner close
banner close