দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন সরকার গঠনের পর এটিই হবে একনেকের প্রথম বৈঠক। রাজধানী শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিলাসী বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চেয়ে চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, এই সভায় নদী, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হচ্ছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। প্রাথমিক তালিকায় ১৮টি প্রকল্প থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তাবিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাদ দিয়ে ১৭টি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উচ্চ ব্যয়ের কারণে আলোচিত এই প্রকল্পটি আপাতত তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৯টিই একেবারে নতুন এবং বাকিগুলো সংশোধিত বা সময় বৃদ্ধির জন্য উপস্থাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প এই বৈঠকে অবহিতকরণের জন্য পেশ করা হবে।
বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন, ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।
এছাড়া ৮ বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রকল্পগুলোর বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অবকাঠামো উন্নয়নে ৫টি, নদী ও জলবায়ু বিষয়ক ৪টি, সড়ক উন্নয়নে ৩টি এবং স্বাস্থ্য খাতে ২টি প্রকল্প স্থান পেয়েছে।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ রোধে সরকার এবার কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টার অভিমত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।
অতীতে বড় শিল্প খাতকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে প্রান্তিক মানুষ অনেক সময় আলোচনার বাইরে থাকলেও বর্তমান সরকার অবহেলিত মানুষের সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
বিশেষ করে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বর্তমানে কঠোর ‘ব্যয় সংকোচন নীতি’ অনুসরণ করছে, যাতে অর্থের অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মেয়াদে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং ডিজেল আমদানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট বর্তমানে বড় সমস্যা এবং সরকার জনগণের ওপর চাপ কমাতে সচেষ্ট রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে সভাপতি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিকল্প সভাপতি করে ৯ সদস্যের একনেক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল (স্বাস্থ্য) এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের এই প্রথম বৈঠকটি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করবে, তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন:








