সরকার পরিচালনায় দেড় বছর সময় পেয়েছিল নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সময়ের নানা অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ব্যর্থতার দায় এখন বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুর টিকাদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে জ্বালানি খাত পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যায়, ব্যবসাবাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সফলতা দেখাতে পারেনি। ফলে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রেখে যায়, যা সামাল দিতে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে টিকা সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। হামসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রকোপ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিল করায় টিকা সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
জ্বালানি খাতেও অস্থিরতা তৈরি হয়। এলপিজি গ্যাসের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিঘ্ন জনজীবনে প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দেয়।
অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কারের নামে ব্যাপক রদবদল ও সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয়, যার ফলে রাজস্ব আয় কমে যায়। এতে সরকারকে ব্যয় নির্বাহে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করা হয় এবং বৈদেশিক ঋণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
ব্যাংক খাতেও অস্থিরতা তৈরি হয়। দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ ও শেয়ারধারীদের স্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংলাপের অভাব, এলসি সুবিধা সীমিতকরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপে উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সাম্প্রতিক এক মতবিনিময় সভায় জানান, দেশে বিনিয়োগ কমছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কর্মসংস্থান ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নীতিগত দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির প্রভাব এখনো বহন করছে বর্তমান সরকার, যা কাটিয়ে উঠতে সময় ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:








