বুধবার

১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮ চৈত্র, ১৪৩২

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:১২

শেয়ার

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুসারে এ সময়ে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচারকৃত অর্থের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং-চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অর্থ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টিতে চার্জশিট দাখিল এবং ছয়টিতে রায় দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত করা হয়েছে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়। সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।



banner close
banner close