পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বামী-স্ত্রীর নামে রূপগঞ্জ, বান্দরবান, কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত কোটি টাকা মূল্যের জমি ও স্থাপনার মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি জব্দ ও ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।
দুদক সূত্র জানায়, গাজী মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অসংগতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্ত্রীর নামে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা বলে প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে। দুদক কর্মকর্তারা তাঁদের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাঠিয়েছেন। জবাবে দাখিল করা বিবরণী যাচাই-বাছাই চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
গাজী মোজাম্মেল ১৯৯৭ সালে সহকারী কমিশনার হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দীর্ঘদিন পুলিশ সদর দপ্তরের উন্নয়ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। গত বছর তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
রূপগঞ্জে পূর্বাচলের পাশে আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলেন মোজাম্মেল। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পটির নাম আনন্দ হাউজিং। আবাসন প্রকল্পটি পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, আনন্দ প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ফারজানা মোজাম্মেল। রূপগঞ্জে স্ত্রীর নামে বিস্তর জমি রয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় স্ত্রীর নামে মেঘনা রিসোর্ট ও চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নদীর ভেতরে বালু ফেলে কৃত্রিম চর তৈরি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বান্দরবানে ১৭৫ বিঘা ও সুনামগঞ্জে প্রায় ১০০ বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে তাদের।
রূপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা জাহের আলীর পরিবারের অভিযোগ, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ডিবি অফিসে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে ৬২ বিঘা জমি জোরপূর্বক লিখে নেন মোজাম্মেল। এ ঘটনায় জাহের আলীর পুত্রবধূ আফরোজা আক্তার আঁখি বাদী হয়ে মোজাম্মেল ও তাঁর স্ত্রীসহ ২০ জনের নামে মামলা করেন। স্থানীয় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জোর করে জমি দখল ও নামমাত্র মূল্যে জমি কিনে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত মোজাম্মেলের ৬৫ বিঘা জমি জব্দ এবং স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানের ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে গাজী মোজাম্মেল হক ফোন ধরেননি।
আরও পড়ুন:








