রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি তাঁর অর্জিত অর্থের একটি অংশ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ অন্তত ১০ জন পলাতক পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ সাবেক এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জমি দখল, জোরপূর্বক ক্রয়, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর। রূপগঞ্জ, কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জের একাধিক ভুক্তভোগী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের একজন রূপগঞ্জের হাজি সোলাইমান মিয়া জানান, তাঁর আট বিঘা জমি ও মাছের প্রজেক্ট জবর দখল করে নেওয়া হয়েছে, যা আজ পর্যন্ত ফিরে পাননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজী মোজাম্মেল হকের উপার্জিত বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ভারত, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, পলাতক সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশিদ ও পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানকারী এসব কর্মকর্তার আয়ের বৈধ উৎস না থাকলেও তাঁদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গাজী মোজাম্মেল হকের প্রতিষ্ঠিত আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটি। নামের সঙ্গে পুলিশ শব্দ যুক্ত থাকলেও প্রকল্পটির সঙ্গে সরকারি কোনো অনুমোদন নেই বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রকল্পের জন্য জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে অনেক ভুক্তভোগীকে মিথ্যা মামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই আবাসন প্রকল্পে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে একটি প্লট উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ, যা পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন জব্দ করেছে।
গাজী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, দুর্নীতিতে জড়িত অনেকেই নামে-বেনামে সম্পদ করছেন এবং তাঁদের ওপর কার্যকর মনিটরিং নেই। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে। এ মামলায় আদালত তাঁর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। মামলা শুরুর পর তিনি সপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
গাজী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে একক নয়, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে অবৈধ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সুধীসমাজ ও সচেতন নাগরিকেরা।
আরও পড়ুন:








