ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তারের পর ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠালেও এখনো সাড়া মেলেনি। পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ আগে এনসিবি বিভাগের মাধ্যমে এই অনুরোধ জানানো হলেও ভারতীয় পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকলেও আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়টি আইনি জটিলতায় রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আসামিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে ভারতীয় পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের চিঠিতে সাড়া না পাওয়ায় এখন বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছে। আগামী ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগী পশ্চিমবঙ্গে আটক হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছুদিনের মধ্যেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আসামিদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কনস্যুলার অ্যাক্সেসও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। এরপর গত ২৩ মার্চ এনআইএ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে এক গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এ মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
আরও পড়ুন:








