চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়ে অর্থ বিভাগের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা, গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ অর্থ প্রয়োজন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে মাসিক ভর্তুকির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে এবং পুরো অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে ৩৬ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযুক্ত হওয়ায় ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির কারণে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করায় এ ব্যবধান ভর্তুকি হিসেবে সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
এ ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতাহীন চুক্তি এবং ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার ফলে ব্যয় বেড়েছে। বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি খাত থেকে আসছে। দীর্ঘদিন সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপরীতে ভর্তুকি না দেওয়ায় এ খাতে উল্লেখযোগ্য বকেয়া দায় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও আন্তঃসীমান্ত সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধে বিলম্ব ঘটতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি জোগান দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয় মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:








