আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ৪৭টি দেশ বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় দেশগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করে।
অধিবেশনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। সংস্থাটির ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষ এ সমর্থন ব্যক্ত করে।
পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ২০১৯ সালের জুনে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পাঁচ শ্রমিক প্রতিনিধি সংস্থাটির সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি শ্রম খাত সংস্কার রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আইএলওতে জমা দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে এ রোডম্যাপের অগ্রগতি নিয়ে আটটি অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে এবং সর্বশেষ অধিবেশনে নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ সময় জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ও শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এবং শ্রম অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি জানান, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সরকার মানবাধিকার, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংশোধনীগুলো বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
অধিবেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিনিধিরা শ্রম আইন সংশোধন, পরিদর্শক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করে রোডম্যাপ পূর্ণ বাস্তবায়নে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন:








