বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ১৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত দুর্ঘটনায় মোট ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনার মধ্যে সড়কপথে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১০৪৬ জন আহত হন। রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার সর্বাধিক। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন খাতে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক এবং সড়কে অনিয়মিত চলাচল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি সড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।
এদিকে একই সময়ে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতির একটি অতিরিক্ত সূচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি থেকে সংগৃহীত।
আরও পড়ুন:








