আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত পূরণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংক্রান্ত বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদের আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকের আগে বিদ্যুতের দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ালে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব কত হতে পারে, সে হিসাব করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করেছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারের ভর্তুকির চাপ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ওপর ভিন্ন হারে দাম বাড়ালে সম্ভাব্য আয় কত হবে, তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, এসব হিসাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ খাতে ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও পিডিবির লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকা ৩৬ পয়সায় কিনে ৬ টাকা ৬৩ পয়সায় বিক্রি করায় এ লোকসান বাড়ছে। চলতি বছরে ভর্তুকি কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নামানো হলেও লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে পাঁচ কোটির বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি স্বল্প ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহক। এ শ্রেণির গ্রাহকের ওপর সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব নিয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, জ্বালানি তেল খাতে সরকারের লোকসানও বাড়ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৮০ টাকার বেশি হলেও দেশে তা ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর অবস্থানে রয়েছে।
গ্যাস খাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এলএনজি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোবাংলার লোকসান বাড়ছে। গত বছর গ্যাস খাতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, আর চলতি বছরের কিছু মাসে এই লোকসান ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে, যা পরে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে এপ্রিলের বৈঠকে আলোচনা হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় সেই আলোচনার অন্যতম বিষয় হতে পারে।
আরও পড়ুন:








