লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রীসে যাওয়ার পথে সাগরে পথ হারিয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার ১০ জন রয়েছেন। দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া, আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান, রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান এবং করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন ও তারেক মিয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের সায়েখ, কবিরপুর গ্রামের নাঈম, বাউসী গ্রামের সুহানুর, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর এবং ইছগাঁও গ্রামের আলী আহমদ নিহতদের তালিকায় রয়েছেন।
গ্রীস থেকে জীবিত ফিরে আসা দিরাই উপজেলার তারপাশা গ্রামের রুহান মিয়া জানান, লিবিয়া থেকে মোট ৪৩ জন যাত্রা শুরু করেন। তাদের বড় নৌযানের আশ্বাস দিয়ে একটি ছোট নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটিতে ৫ জন সুদানের নাগরিক এবং ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিলে একে একে ২২ জন মারা যান। পরবর্তীতে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রীস কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং ১ জন চাদের নাগরিক রয়েছেন।
নিহত মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে বাড়ি থেকে রওনা হন। প্রথমে ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চুক্তির আংশিক অর্থ পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং পরে জীবিত ফেরা এক ব্যক্তির মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানা যায়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী জানান, বিষয়টি শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ ঘটনাটি যাচাই করছে এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে কয়েকজন যুবকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








