রাজধানীর গণভবনে নির্মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সম্পন্নের কাছাকাছি থাকলেও কবে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সূত্রগুলোও এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাদুঘরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ ও প্রদর্শনীর প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ। শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনা সংগ্রহ করে গণভবন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। পুরো এলাকা স্মৃতিনির্ভর প্রদর্শনীর উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত জাদুঘরটি উন্মুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিদেশি প্রতিনিধিদেরও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করান। তবে তার দায়িত্বকালেও জাদুঘরটি চালু করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দফা সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাদুঘরটি কবে খোলা হবে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা নেই। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু কাজ বাকি থাকার কথা বলা হলেও সেই কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আওতায় একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাদুঘরটিতে আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা, শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, সংবাদ প্রতিবেদন এবং অডিও-ভিডিও উপস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও প্রকল্পের কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় উদ্বোধন স্থগিত রাখা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম জানান, জাদুঘরটি চালুর বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কিছু কাজ বাকি থাকায় উদ্বোধনে বিলম্ব হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রশাসনিক ও নীতিগত পর্যায়ে কিছু প্রক্রিয়া চলমান থাকায় জাদুঘরটি উদ্বোধনের সময় নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও এটি কবে নাগাদ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়েছে।
আরও পড়ুন:








