শুক্রবার

২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০১

শেয়ার

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত
ছবি সংগৃহীত

অর্থসংকট, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একবারে পূর্ণ বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে পে স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল প্রণয়নে একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। ২১ সদস্যের এই কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আগামী ১১ জুন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এ বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেল একযোগে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল কার্যকর না হওয়া এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে প্রশাসনিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।



banner close
banner close