সাংবাদিক মুন্নী সাহা-র ব্যাংক হিসাব থেকে ১২০ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি ব্যাংক হিসাব থেকে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করা হয়। বর্তমানে ওই হিসাবে স্থিতি রয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১২ কোটি টাকার বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি। মোট ১২০ কোটি টাকা ১৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। গুলশান ও কাওরান বাজারের ওয়ান ব্যাংকের শাখা থেকে এসব অর্থ উত্তোলন করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই মুন্নী সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তার ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, আয়ের উৎস ও সম্পদের বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন।
দুদকের তথ্যমতে, ২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মুন্নী সাহার নামে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় ৩ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, তার স্বামী কবীর হোসেনের নামে ২ কোটি ১২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ১৪ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। তার মোট সম্পদ ১৬ কোটি ৬৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, যেখানে গ্রহণযোগ্য আয় ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
বিধিবহির্ভূত লেনদেনের অভিযোগে মুন্নী সাহার ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তার স্বামীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবেও বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের উপ-পরিচালক ইয়াছির আরাফাত আদালতে তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেছেন। আবেদনে বলা হয়, মুন্নী সাহা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ১০ ও ১৪ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুদকের একাধিক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে মুন্নী সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, টেলিভিশন সাংবাদিকতায় পরিচিত মুখ মুন্নী সাহাকে সম্প্রতি এটিএন নিউজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলারও আসামি তিনি।
আরও পড়ুন:








