জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশটি বাতিলের সুপারিশ করলে বিরোধিতা করে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তাদের মতে, যে আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে তা এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এই সুপারিশের বিরোধিতা করে বলেন, গণভোটে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে এবং কোনো আইন এখতিয়ারবহির্ভূত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। তিনি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশকে অনুপযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানান, গণভোট অধ্যাদেশ বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি এবং বিষয়টি পরবর্তী বৈঠক অথবা সংসদ অধিবেশনে আলোচনা করা হবে। তিনি সংবিধানের আলোকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়েছে। তবে গণভোট অধ্যাদেশসহ ২০টি বিষয়ে এখনো মতৈক্য হয়নি। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের সংশোধনী নিয়েও বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে আগামী ১২ এপ্রিলের পর সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে জামায়াতে ইসলামীর এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, যেসব অধ্যাদেশে ঐকমত্য হবে সেগুলো অপরিবর্তিত বা সংশোধনীসহ পাস করা হবে। যেসব বিষয়ে মতৈক্য হবে না, সেগুলো বর্তমান অধিবেশনে বাতিল হতে পারে অথবা পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, সরকার সংবিধান ও জুলাই সনদের আলোকে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করছে এবং সংবিধান সংশোধন-সাপেক্ষ বিষয়গুলো আলাদাভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন:








