বুধবার

৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২, পরিবারকে সহায়তা দেবে সরকার: রেল প্রতিমন্ত্রী

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৪৪

শেয়ার

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২, পরিবারকে সহায়তা দেবে সরকার: রেল প্রতিমন্ত্রী
ছবি বাংলা এডিশন

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শনিবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টুর স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)। এছাড়া নিহতদের মধ্যে তাজুল ইসলাম (৬৭), জুহাদ বিশ্বাস (২৪), সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), বাবুল চৌধুরী (৫৫), ফচিয়ার রহমান (২৬), সোহেল রানা (২৫), নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং সাঈদা (৯) রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রোববার দুপুরে স্বজনরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মরদেহ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করেন। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ এলাকায় স্বজনদের উপস্থিতিতে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় কোনো সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়নি। ওই সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ক্রসিং অতিক্রমকালে উত্তরবঙ্গ থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এতে ট্রেনটির সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনটি সেটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে কুমিল্লা নগরীর দৈয়ারা এলাকায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান জানান, আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, প্রাথমিকভাবে গেটম্যানদের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।