বৃহস্পতিবার

১৯ মার্চ, ২০২৬ ৫ চৈত্র, ১৪৩২

ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেন-লঞ্চে যাত্রীচাপ, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৬

শেয়ার

ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেন-লঞ্চে যাত্রীচাপ, ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ
ছবি সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। টার্মিনালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ও মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে যাওয়ায় গাবতলী টার্মিনালে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পরিবহন সংকট যাত্রীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার অধিকাংশ বাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক যাত্রী জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিবহন মালিকরা। অন্যদিকে, পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সংগ্রহে সময়ক্ষেপণের কারণে কিছু বাস ছাড়তে দেরি হয়েছে।

মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ঘরমুখো মানুষকে। গণপরিবহন সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে নারী ও শিশুসহ অনেক যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিয়ে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় এলাকায় কয়েক কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পথে পথে যাত্রী তোলার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকাল থেকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদযাত্রার ট্রেনগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিলম্বে চললেও সকালের মধ্যে সাতটি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার প্রভাবে ওই রুটের যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করলেও অনেকে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। স্টেশন ব্যবস্থাপক (চাহিদা সাপেক্ষে নাম) জানান, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে কাজ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।

নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। লঞ্চে জায়গা পেতে ভোররাত থেকেই ঘাটে অবস্থান নিয়েছেন অনেকে। গত দিনের লঞ্চ দুর্ঘটনার পরও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। লঞ্চ পন্টুনে ভিড়তেই হুড়মুড়িয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র পরিদর্শক (নাম চাহিদা সাপেক্ষে) জানান, লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পূর্ণ হলেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দই যাত্রীদের অগ্রাধিকার বলে তারা জানান।



banner close
banner close