যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বুধবার, ১৮ মার্চ, এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিজিটর ভিসা সংক্রান্ত বেশ কিছু নিষিদ্ধ কাজের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোরতার অংশ হিসেবে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
দূতাবাসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, বি১-বি২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া যাবে না। এই ধরণের ভ্রমণ, যা 'বার্থ ট্যুরিজম' নামে পরিচিত, মূলত সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য করা হয়, যা এখন থেকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও, এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোনো প্রকার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বেতনভিত্তিক কোনো কাজ এই ভিসায় করা যাবে না। শুধু কাজই নয়, ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট অর্জনের জন্য পড়াশোনাও এই ভিসায় করা যাবে না বলে দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশি বি১/বি২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করে। ভিসার শর্ত ভঙ্গ না করলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই তারিখে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্রেন্ট বা স্থায়ী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা, যেমন ভিজিটর বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
মার্কিন দূতাবাস জালিয়াতি ও জাল নথি ব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভিসা আবেদনে ভুয়া তথ্য বা জাল নথি প্রদান করলে যেকোনো ধরনের ভিসা চিরতরে নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, ভিসা বন্ড সংক্রান্ত জালিয়াতি এড়াতে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের আগে কোনো টাকা পরিশোধ না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








