রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ, কূটনৈতিক সহায়তা চেয়েছে বিএসসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৪৫

শেয়ার

হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ, কূটনৈতিক সহায়তা চেয়েছে বিএসসি
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে তৈরি হওয়া চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে আটকা পড়েছে। ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকসহ জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা উপকূলের বহির্নোঙর এলাকায় নিরাপদ অবস্থানে থাকলেও, এটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে জাহাজটির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সহায়তা চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিএসসি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ নামের এই জাহাজটি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করার পর এটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের ফলে সমগ্র অঞ্চল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে জাহাজটি নতুন পণ্য বহনের পরিকল্পনা বাতিল করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে ওই এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে জাহাজটি ফিরে এসে শারজা উপকূলের কাছে নোঙর করে।

জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধই রয়েছে। এই এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে একটি চীনা জাহাজ ছাড়া আর কোনো জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেনি। তাদের পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকই সুস্থ আছেন এবং তাদের মনোবল অটুট রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের জন্য জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জ্বালানি মজুত আছে। নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতার থেকে নতুন করে পণ্য বহনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মঞ্জুর-এ সক্রিয় রয়েছেন জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হবার পর থেকে প্রণালি ও তার আশপাশের এলাকায় কমপক্ষে ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুবাই উপকূলের কাছে সোর্স ব্লেসিং নামের একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে অবস্থানরত বাংলাদেশের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই হামলায় জাহাজের প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন এবং আটকে পড়া ২৮ নাবিককে পরে উদ্ধার করা হয়।



banner close
banner close