রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

জুন-জুলাই থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেবে রূপপুরের প্রথম ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০২

শেয়ার

জুন-জুলাই থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেবে রূপপুরের প্রথম ইউনিট
ছবি সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী জুন-জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে মে মাসে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। আগস্টে সক্ষমতার প্রায় ৫৮ শতাংশ অর্থাৎ ৭৮৭ মেগাওয়াট, সেপ্টেম্বরে প্রায় ৯৯১ মেগাওয়াট এবং নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন তথ্য দেন যে এপ্রিলের মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোড করা হবে এবং জুন-জুলাই মাসের মধ্যে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তথ্য দেন যে আগামী ৭ এপ্রিল কেন্দ্রটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর জুন-জুলাই মাসে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং উৎপাদনের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। পূর্ণ সক্ষমতায় প্রথম ইউনিটের ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রটি প্রায় এক বছর আগে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও বিভিন্ন কারণে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ-এর ফলে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক লেনদেনের জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটম-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। উভয় ইউনিট চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে কেন্দ্রটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম তথ্য দেন যে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে, ফলে আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিলম্বের কারণে যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতার সময়ও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রটি উৎপাদনে এলে দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



banner close
banner close