সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং বা এইচভিএসি সিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ট্রেনিং শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা আগামী ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় সেফটি ফ্যাসিলিটিস, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অব এইচভিএসি সিস্টেম বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য আট কর্মকর্তার বিদেশ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে নির্ধারিত সময় দুই দফা পরিবর্তনের পর সর্বশেষ গত ৪ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়।
নথি অনুযায়ী, এই সফরের ব্যয় বহন করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের সরবরাহ করা সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে।
যে প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন, সেটি হলো আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা এবং এটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় ও ব্যয় সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটির অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হতে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় স্থাপিতব্য চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ই এম আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সিভিল কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এইচভিএসি সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানো হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, উন্নত দেশ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে পেশাগত কাজেও তা কাজে লাগবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
আরও পড়ুন:







.jpg)
