সোমবার

২ মার্চ, ২০২৬ ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৫

শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। সংঘাতের জেরে আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে এবং হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অর্ধকোটির বেশি বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিভিন্ন দেশে তেহরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। কোথাও সাইরেন, কোথাও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

দুবাই, রিয়াদ, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। প্রবাসীদের স্বজনরাও দেশে বসে টেলিভিশন ও অনলাইনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত এবং কিছু দেশের আকাশসীমা সীমিত বা বিমানবন্দর আংশিক বন্ধ ঘোষণার ফলে কর্মী ও যাত্রীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে অবস্থানরত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী কর্মরত থাকায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

জর্ডানে সদ্য কর্মী ভিসায় যোগ দেওয়া এক বাংলাদেশী নারী কর্মী খুদে বার্তায় জানান, হামলার পর সাইরেন বাজানো হলেও কর্তৃপক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি নিজেকে নিরাপদে থাকার কথা জানালেও দেশে থাকা পরিবারের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অভিবাসী কর্মীদের ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় থাকা জরুরি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)-এর প্রতিষ্ঠাতা তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, দূতাবাসগুলোকে আরও তৎপর হয়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘ হলে অনেক সময় কর্মীদের বেতন-ভাতা ছাড়াই ফেরত পাঠানো হয়, যা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা কূটনীতিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো পৃথক সতর্কবার্তা জারি করেছে। দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার, অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জরুরি সামগ্রী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সংযম ও দায়িত্বশীলতারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম অংশ নেন। বৈঠকে তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা হয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের হতাহতের কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশপথ বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু বাংলাদেশী কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আটকে পড়া নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কয়েকটি দেশ ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।



banner close
banner close