জাতির ওপর বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ‘ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ’ (এফইআরবি)-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিগত সরকারের অপরিকল্পিত নীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, আগে লোডশেডিং থাকলেও তা জাতির ওপর কোনো আর্থিক বোঝা তৈরি করেনি। এখন আলো জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু সেই আলোর নিচে ঋণের পাহাড় অনেক ভারী।
বিদ্যুৎ খাতে ঋণের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করা ভালো।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর কাছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বকেয়া বিল পরিশোধের দাবির মুখে মন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও অপচয় নিয়ে মন্ত্রী জানান, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয় বা সিস্টেম লস বর্তমানে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতি ১ শতাংশ অপচয় মানে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি। বর্তমান সরকার এই সিস্টেম লস প্রাথমিকভাবে ৫ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সিস্টেম লস কমাতে পারলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো সংস্থার চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে এবং জ্বালানি খাতের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ সরাসরি পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই আজ এই সংকটের মূলে। সরকার এখন নিজস্ব রিগ কেনা এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশীয় কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে। তবে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সামনে গরমের মাসগুলোতে গ্যাসের চাপ আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সংকট ও বিল পরিশোধের জটিলতা দূর করতে দ্রুততম সময়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:








