শুক্রবার

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

মব সহিংসতার আশঙ্কায় সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা সাবেক উপদেষ্টাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫১

আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:১৭

শেয়ার

মব সহিংসতার আশঙ্কায় সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা সাবেক উপদেষ্টাদের
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি মব সহিংসতার আশঙ্কায় সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করেছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চলতি মাসের মধ্যে বাসা খালি করার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কেউ কেউ অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দেশি ও বিদেশি সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টরা মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ১৭ থেকে ১৮ মাসের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উল্লিখিত সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে মব সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের প্রয়োগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় গ্রেপ্তার এবং বিচারহীন আটক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে ৬০ জন নিহত হন। কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জনের, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দিও রয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন।

বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হলেও সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টা আশঙ্কা করছেন, অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা জনরোষের মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে তারা সরকারি বাসভবনে অবস্থান অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবন ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং তাদের পেনশন সুবিধাও প্রযোজ্য নয়। বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে চলতি মাসের মধ্যেই তারা বাসা ছেড়ে দেবেন। বিশেষ প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না।

তথ্যমতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে গুলশানের নিজ বাসভবনে উঠবেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের পর শপথ নেওয়ার পর থেকে যমুনায় অবস্থান করছিলেন।

আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত সাবেক দায়িত্বশীলদের বাসা খালি হলে রং ও মেরামতের কাজ শেষ করে পর্যায়ক্রমে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বর্তমানে সরকারে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৯ জন রয়েছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংশ্লিষ্ট পদধারীদের আবাসন চাহিদা বিবেচনায় মোট বরাদ্দযোগ্য বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৩৭টি। আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, সবাই সরকারি বাসা নাও চাইতে পারেন; সমন্বয়ের মাধ্যমে আবাসন ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা হবে।



banner close
banner close