শুক্রবার

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

বিজয়ী ৯১.২৫ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি: সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:১৩

শেয়ার

বিজয়ী ৯১.২৫ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি: সুজন
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে কোটিপতি বিজয়ী প্রার্থী ৯১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানানো হয়।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭১ জন বা ৯১ দশমিক ২৫ শতাংশের সম্পদ কোটি টাকার অধিক। ৫ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক ১৮৭ জন বা ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০১ জন বা ৯৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জনের মধ্যে ৫২ জন বা ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক।

সুজন জানায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় নবনির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে কোটিপতির হার ছিল ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজয়ী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮ জনের (২ দশমিক ৬৯ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি; ১৩৮ জনের (৪৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ) স্নাতকোত্তর; ৯৩ জনের (৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ) স্নাতক, ২০ জনের (৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ) এইচএসসি এবং ১৭ জনের (৫ দশমিক ৭২ শতাংশ) এসএসসি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিজয়ী সংসদ সদস্যের ১৮২ জনের পেশা (৬১ দশমিক ২৮ শতাংশ) ব্যবসা, ৩৬ জনের (১২ দশমিক ১২ শতাংশ) আইন পেশা, ২২ জনের (৭ দশমিক ৪০ শতাংশ) শিক্ষকতা, ১৩ জনের (৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ) কৃষি, ৮ জনের (২ দশমিক ৬৯ শতাংশ) রাজনীতি, ৫ জনের (১ দশমিক ৬৮ শতাংশ) চাকরি এবং ২৭ জনের (৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ) অন্যান্য।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের হার ছিল ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ; নির্বাচিতদের মধ্যে তা ৬১ দশমিক ২৮ শতাংশ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বয়স সম্পর্কে জানানো হয়, সংসদ সদস্যের মধ্যে ১১ জনের (৩ দশমিক ৭০ শতংশ) বয়স ৩৫ বছরের নিচে; ৩৫ ঊর্ধ্ব থেকে ৫৫ বছর বয়স ৮৫ জনের (২৮ দশমিক ৬১ শতাংশ); ৫৫ ঊর্ধ্ব থেকে ৭৫ বছর বয়স ১৮০ জনের (৬০ দশমিক ৬১ শতাংশ) এবং ৭৫ বছর ঊর্ধ্ব বয়স ১৯ জনের (৬ দশমিক ৪০ শতাংশ)। বিজয়ীদের বেশির ভাগের (১৭৭ জন বা ৬০ দশমিক ৬১ শতাংশ) বয়স ৫৫ ঊর্ধ্ব থেকে ৭৫ বছর।

মামলা-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪২ জনের (৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ১৮৫ জনের (৬২ দশমিক ২৮ শতাংশ) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ৯৫ জনের বিরুদ্ধে (৩১ দশমিক ৯৯ শতাংশ) অতীত-বর্তমান উভয় সময়ে মামলা ছিল। ৩০২ ধারার মামলার ক্ষেত্রে ৪৩ জনের (১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪২ জনের (১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ১২ জনের (৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ) অতীতে মামলা ছিল এবং বর্তমানেও আছে।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঋণ সম্পর্কে জানানো হয়, সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা (৪৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ)। ১৪৭ জন ঋণ গ্রহীতার মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ করেছেন ৩৬ জন (২৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ)। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণ গ্রহীতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।



banner close
banner close