২০০০ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার ছিল বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদকর্মীদের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং আদর্শিক অবস্থানের কারণে দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় মঞ্চ ২৪ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
গণমাধ্যম একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি। ভিন্নমত বা রাজনৈতিক পটভূমির অজুহাতে কোনো সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করা জুলাই আন্দোলনের চেতনাবিরোধী। আমরা মনে করি, অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই স্বচ্ছ তদন্ত, প্রতিষ্ঠিত নীতিমালা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে হবে। প্রশাসনিক প্রভাব, গোষ্ঠীগত চাপ বা প্রতিহিংসামূলক মনোভাব গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে।
এটিও অনস্বীকার্য যে পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু গণমাধ্যম ও ব্যক্তি সাংবাদিক পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং বিরোধী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক প্রচারণা চালিয়েছিলেন। সেই ইতিহাস জনগণের স্মৃতিতে অম্লান। তবে অতীতের ভুলের প্রতিকার হতে পারে না নতুন অন্যায়ের মাধ্যমে। ন্যায়ভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে আইন ও নীতির আলোকে, প্রতিহিংসার ভিত্তিতে নয়।
মঞ্চ ২৪ দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—
১. সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে গৃহীত সকল প্রশাসনিক পদক্ষেপ অবিলম্বে পর্যালোচনা করা হোক।
২. সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক।
৩. অতীতের অপব্যবহার বা অনৈতিক সাংবাদিকতার অভিযোগ থাকলে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা হোক।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে দায়িত্বশীল, সত্যনিষ্ঠ ও জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণমাধ্যম অপরিহার্য। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়—রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হোক সাংবাদিকতার একমাত্র মানদণ্ড।
গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে জনগণ তাদের সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ অধিকার প্রয়োগে বাধ্য হবে—এ কথাও আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি।
আরও পড়ুন:








