চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে প্রসিকিউশনের পক্ষে জবাব দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। পরে আসামিপক্ষ পাল্টা জবাব উপস্থাপন করে। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন ধার্য না করায় যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্যরা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসানসহ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৫ জানুয়ারি শেষ হয়। তিন কার্যদিবসে মামলার সার্বিক ঘটনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান ও কার্যকলাপ শনাক্ত করে দেখান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। প্রসিকিউশন মামলায় অভিযুক্ত ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।
অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বেকসুর খালাস চান।
এদিন সকালে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন, এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। তবে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন এবং এর আগে ২৪ জুন তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:








