আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় দাসসহ ৩৯ আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ। সোমবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা আদালত এ নির্দেশ দেন।
এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ বাকি আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে পুরো আদালপাড়ায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে।
এ ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা হয়।
পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উসকানি ও নির্দেশেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, রিপন দাস বঁটি দিয়ে আলিফের ঘাড়ে দুটি কোপ দেন এবং চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে আঘাত করেন। পরে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা আলিফকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করা হয়।
গত ২৫ আগস্ট আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলার বাদী ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২৫ নভেম্বর ঢাকার একটি এলাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন:








