সোমবার

১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬ মাঘ, ১৪৩২

ক্ষমা চাওয়ার পরও আমির হামজার বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদল নেতার মামলা

ইবি, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:৫৮

শেয়ার

ক্ষমা চাওয়ার পরও আমির হামজার বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদল নেতার মামলা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ধর্মীয় বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলা আদালতে মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান চৌধুরী শিহাব।

রবিবার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত দায়েরকৃত মামলাটি গ্রহণ করেন। মামলাটির বিষয়ে আদালত আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ।

মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রূপমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা স্পষ্টতই মানহানিকর।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, এসব বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। এর ফলে তাঁদের পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জাতীয়তাবাদী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক অপমান ও মানসিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বাদী ছাত্রদল নেতা শিহাবের দাবি অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখেন। এছাড়া আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার আবেদনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০০/৫০১/৫০৬ অনুযায়ী, অভিযোগ আমলে গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, "এটি আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আদালতে মামলার আবেদন করেছি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেছেন।"

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি মাহফিলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর নাম উচ্চারণে কুকুর বলেন তিনি। সম্প্রতি তার বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত ১৭ই জানুয়ারি মুফতি আমির হামজা তার এই বক্তব্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে ক্ষমা চান।



banner close
banner close