বৃহস্পতিবার

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১ মাঘ, ১৪৩২

আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তার জন্য গণভোট : আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৫৯

শেয়ার

আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তার জন্য গণভোট : আলী রীয়াজ
সংগৃহীত ছবি

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আগামী কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেই দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্যই গণভোট। গণভোট কোনো ব্যক্তি বা সরকারের পক্ষে নয়। গণভোটে বলা হচ্ছে, আগামী ৫, ১০, ১৫, ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে দেশটা কীভাবে চলবে।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভাগের ইমাম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতেই অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, লাখ লাখ মানুষের, ১৪০০ জন তরুণ, ১৪০০ জন ছাত্র-শিক্ষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দোকান কর্মচারী—বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের রক্তের মধ্য দিয়ে যে পথ তৈরি হয়েছে, সেই পথ হচ্ছে আমাদের গন্তব্য। জুলাই জাতীয় সনদ কালো কালিতে ছাপা হলেও, এর প্রতিটি অক্ষর রক্ত দিয়ে লেখা। জুলাই জাতীয় সনদ লেখা হয়েছে ১৪০০ মানুষের রক্ত দিয়ে এইটাই আমাদের মনে রাখা দরকার।

গণভোট ও এই সমাবেশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই আয়োজন কেবল নির্বাচন বা গণভোটের প্রচার উপলক্ষ নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে দুটি বড় দায়িত্ব। প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে শহীদ ও নিপীড়িত মানুষের আত্মত্যাগের দায় স্মরণ করা। যে মা তার সন্তান হারিয়েছে, যে মায়ের বুক খালি হয়েছে—তারা আমাদের একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা যারা জীবিত আছি, তাদের ওপরে এই দায়িত্ব যে মানুষরা প্রাণ দিলেন, তারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা যেন ভবিষ্যতে এ দেশে ফেরত না আসে।

দ্বিতীয় দায়িত্ব হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের। গড় আয়ু ৭২ বছর ধরলে, গড়ে প্রত্যেকে আগামী ৪৮ বছর বাঁচবেন। কেমন বাংলাদেশে তারা বাঁচবেন সেই বাংলাদেশ আমরাই তৈরি করে তাদের হাতে তুলে দেব।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যরা পাঁচ বছর দেশ চালাবেন, কিন্তু কীভাবে চালাবেন-সেই দিকনির্দেশনা আপনারাই দিয়ে দেবেন। কারণ দেশটা আপনার, দেশটা আমার।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ অধ্যাপক ইউনূস তৈরি করেননি। তার সরকারও তৈরি করেনি। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু সমস্ত রাজনৈতিক দল আলাপ-আলোচনা করে যেখানে একমত হয়েছেন, সেখান থেকেই এই দিকনির্দেশনা এসেছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় যে কোনো দণ্ডিত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি চাইলেই ক্ষমা করে দিতে পারেন। অথচ জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছেন ভবিষ্যতে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সম্মতি ছাড়া এটা সম্ভব হবে না। আসলে রাষ্ট্রপতি নয়, এই ক্ষমার কলকাঠি নাড়ে প্রধানমন্ত্রী। কারণ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ সিদ্ধান্তই নেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমাহীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার তো শেষ নাই। তিনি যতবার বিজয়ী হবেন, ততবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে আমরা ভোট দিতে পারি না। কারণ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না। কমিশনের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দেন, আর রাষ্ট্রপতি দেন প্রধানমন্ত্রীর কথায়।

তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কার কেবল একটা আলাদা বিষয় নয়। সরকারি নিয়োগের পুরো ব্যবস্থাটাই সমস্যার। একসময় বলা হয়েছিল- ‘আপনারা পরীক্ষা দেন, বাকিটা আমরা দেখব’। এই ব্যবস্থাই বদলাতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি বলে- হ্যাঁ, বদলাতে হবে—তাহলে কোনো রাজনৈতিক দলের সুযোগ নেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার। অবশ্যই হতে হবে।



banner close
banner close