১লা জানুয়ারি। পল্লী বাংলার জীবন, প্রেম, বেদনা ও মানবিক অনুভূতির অনন্য কবি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের জন্মদিন। বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কবি ১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার অম্বিকাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব থেকেই গ্রামীণ জীবন, কৃষক সমাজ, নদী, মাঠ ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ কবির মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই জীবনবোধই পরবর্তীতে তাঁর কবিতা ও সাহিত্যে শক্তিশালী রূপ পায়। জসীমউদ্দীনের সাহিত্যকর্মে গ্রামবাংলা শুধু প্রেক্ষাপট নয়, বরং জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছে।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর লেখা কবিতা “কবর” তাঁকে অল্প বয়সেই খ্যাতি এনে দেয় এবং বাংলা কবিতায় একটি ভিন্ন ধারা সৃষ্টি করে।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে নকশীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, বালুচর, ধানখেতসহ আরও বহু কবিতা ও গদ্যগ্রন্থ। এসব রচনায় গ্রামীণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রেম, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধ গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর সাহিত্য আজও পাঠকসমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও প্রভাবশালী।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের জন্মদিন উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, যতদিন গ্রামবাংলা থাকবে, ততদিন পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কবিতাও বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।
আরও পড়ুন:








