বিএরনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রমাহনকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক শাহেদ আলম। কয়েকবছর আগে নিজের ব্যক্তিগত ব্লগেও তিনি বলেছেন, দুর্বলতম দলে পরিণত হয়েছে তারেক জিয়া এবং বিএনপি।
বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে এবং তারেকের রাজনৈতিক পদ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শাহেদ। তারেককে সিংহাসেন বসানোর জন্য অপেক্ষা করছে মানুষ। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশের পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়েও সন্ধিহান এই সাংবাদিক।
এমনকি ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহামনের নাম জড়ানোর বিষয়েও দিয়েছেন নেতিবাচক বক্তব্য। একটি ভিডিওতে কাঁচের খালি বোতল দেখিয়ে, বিএনপি বোতলবন্দি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আবার, তারেকের চেয় সজীব ওয়াজেদ জয়ের জনপ্রিয়তার বেশ বলেও মন্তব্য করেছিলেন শাহেদ। এক সময় বিএনপির সমালোচনা করা সাহেদ এখন বিএনপির প্রচারক। সম্প্রতি তিনি বেশ কিছু টক শোতে অংশ নিয়ে বিএনপির পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারেক রহমানের কীভাবে রাজনীতি করা উচিত তার পরামর্শও দিচ্ছেন শাহেদ।
কিছু দিন আগে যেই নেতাকে কটাক্ষ করে কথা বলেছেন, সেই তারেক রহমান জিয়ার মতো মাঠ-ঘাট চষে বেড়াবেনো উচিত বলেন মনে করেন এই সাংবাদিক। আবার আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও যথেষ্ট প্রেমও দেখিয়েছেন তিনি। শাহেদ বলেছেন বঙ্গবন্ধুকে অশ্রদ্ধা করে কথা বললেই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া যাবে না।
আবার বিরোধী দল হিসাবে আওয়ামী লীগ বেশ শক্তিশালীও মনে করেন এই বিতর্কিত সাংবাদিক।
বিএনপিকে কটাক্ষ বা আওয়ামী প্রেম নয় জামায়াতে ইসলামীকেও খাটো করে কথা বলতে ছাড়েননি শাহেদ। জামায়াত মোনাফেকের রাজনীতি করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এমনকি বিএনপি যেসব চাঁদাবাজ নেতাদের বহিস্কার করছে জামায়াত তাদের তুলে আনছে বলেও দাবি করেছেন শাহেদ।
অ্যাভোকেট শিশির মনিরকে নিয়েও বতর্কিত মন্তব্য করতে ছাড়েননি। বলেছেন, তিনি নাকি গুপ্ত অবস্থায় ছিলেন। এমনকি ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসাবে সাংবাদিক থিওডের হার্ডজেলের ছবি দেখিয়ে ইসলামের মৌদুদি আদর্শের সমালাচনা করেছেন ধর্মীয় বক্তা বনে যাওয়া শাহেদ।
জামায়াতের আমির শহীদ মতিউর রহমান নিজামির সন্তানদের নিয়েও বিতর্কিত কথা বলেছেন তিনি।
ছাত্র শিবিরকে নিয়েও নানা সময়ে দিয়ছেন বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তার বক্তব্যগুলো ছিলো হাস্যকর। তিনি ছিলেন শিবিরেরর বিপক্ষে। তবে শিবির শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। এজন্য তাকে অবশ্য ধুয়ে দিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভেস্ট পিনাকি চট্টপাধ্যায়। এরপরও বিভিন্ন টক শোতে শিবরকে মব সৃষ্টিকারী বলছেন শাহেদ।
শুধু রাজনীতি নয়, ধর্ম নিয়েও তাকে বিতর্কিত বক্তব্য দিতে দেখা গেছে এই বিতর্কিত সাংবাদিককে। এক সময় তিনি বলেন ইসলাম ধর্মের আগে হিন্দু ধর্ম আসে।
আবার মুসলমানরা যেখানে যায় সেখানেই মসজিদ বানায়। এটি নাকি একটা ধান্দার অংশ। ধর্ম নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ কথাও বলেছেন শাহেদ।
এরপর বলেছেন, তাবলীগ জামাতের মতোই ইসকন একটি ধর্মীয় সংগঠন। এটি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। এবিষয়ে মুসলমানদের মগজ ধুলাই করা হয়েছে। তিনি বলছেন ইসকন ভারতের সংগঠনও নয়।
ইসকন কী ইনিয়েবিনিয়ে ইতিবাচক সেই মনোভাবের কথাও তুলে ধরেছেন শাহেদ।
এমনকি ইসকন কোনো জঙ্গি কাজের সাথে জড়িত নয় বলেও দাবি করেন এই সাংবাদিক।
অবশ্য এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ইসকনকে নিষিদ্ধ করেছে। দেশেও ইসকনের হামলায় চট্টগ্রামে আদালত চত্তরে হত্যার শিকার হয়েছেন এক আইনজীবী। সেই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় সংগঠনটির নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকেও। তবে, শাহেদ বলেছিল, ইসকন ভারতের সংগঠন নয়। অথচ ইসকন নেতা চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের পর বিশ্বের কোথাও বিক্ষোভ না হলেও প্রতিবাদে ফূঁসে ওঠে ভারত। দেশটির বাংলাদেশের হাইকমিশনে ভাংচুর চালায় উগ্রবাদীরা। অভিযোগ আছে, ইসকানের কাছে থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়েই তাদের পক্ষে সাফাই গেয়েছে শাহেদ। দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও ইসকনের বিষয়ে ধারণা পরিস্কার।
এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি বিরিয়ানির দোকানে নিয়মিত চাঁদা নিতেন শাহেদ আলম। এমন অভিযোগের কারণে তিনি বিরিয়ানি আলম নামেও বেশ পরিচিত।
আরও পড়ুন:








