শেখ মুজিবকে বিশ্বাসঘাতক বলায় জামায়াত নেতার ওপর চটেছেন যমুনা টিভির আলোচিত- সমালোচিত উপস্থাপিকা রোকসানা আঞ্জুমান নিকোল।
চার ডিসেম্বর যমুনা টেলিভিশনের সাম্প্রতিক একটি লাইভ টকশোতে উপস্থাপিকা নিকোল ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের তীব্র বাকবিতণ্ডা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয় ও তার নানা শেখ মুজিবকে বিশ্বাস ঘাতক আক্ষা দেন শাহরিয়ার।
এসময় নিকোল, শহারিয়ারকে থামিয়ে দিয়ে, অত্যন্ত কঠোরভাবে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাসঘাতক সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে একজন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
নিকোলের এই মন্তব্যের পর ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার প্রসঙ্গে ‘মাইনাস ফোর’ তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে এবং একইসাথে বর্তমান ও সাবেক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা করেন।
এসময় উপস্থাপিকা নিকোল বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগও করেন শাহরিয়ার।
এ ঘটনার পরই আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিষয়টি। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার পিতা ও বাকশাল কায়েম করে দেশের মানুষকে জুলুম করা মুজিবের প্রতি নিকোলের এমন মায়াকান্না নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের ব্যক্তিবর্গরা।
তবে, মুজিবের বন্দনায় কেন মেতে উঠলেন নিকোল?
আওয়ামী আমলের টকশো গুলোতে বেশ নমনীয় থেকে তেলবাজি করলেও বর্তমানে তিনি হয়ে উঠেছেন দোসের পক্ষের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। সেসময় আওয়ামী লীগের তোষামদী করে বিভিন্ন সময় পেয়েছেন পুরস্কার, ঘুরেছেন দেশ-বিদেশ। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদের সাথে এই উপস্থাপিকার গোপন ঘনিষ্ঠতা নিয়েও গুঞ্জন আছে। নিকোলের সাথে মুরাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, মিডিয়ার আড়ালে থাকা সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককেও, টক শোতে ডেকে এনে পারিবারিক খোশগল্পে মেতে ওঠেন নিকোল।
আনিসুলের আইনমন্ত্রী হওয়ার গল্প শুনে তৃপ্তির হাসিতে ফেটে পড়েন এই উপস্থাপিকা।
নিকোলের সাথে আনিসুল হক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমনের সাথে তোলা ছবিও এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। এসব মাধ্যমের ব্যবহারকারীও মাপছেন তাদের সাথে নিকোলের সম্পর্কের গভীরতা।
এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের টক-শোতে বিব্রতকর প্রশ্ন করে একের পর এক হয়রানি করার চেষ্টা করেছেন বিতর্কিত এই উপস্থাপিকা। এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকেও বিব্রত করার চেষ্টা করেছেন নিকোল। তবে হাসনাতের সৎ সাহসের সাথে পেরে ওঠেননি তিনি।
নিকোলের আওয়ামী প্রেমের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিযাছ হোসাইন, পিনাকী ভট্টাচার্য ও ড. কনক সরোয়ার । যৌথ এক ফেসবুকে তারা লিখেছেন, যমুনা টিভি জুলাই আন্দোলনসহ খুনী হাসিনার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যে কারণে যমুনা মালিক পক্ষ নানাভাবে স্বৈরাচারের নিপিড়নের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদনে একজন উপস্থাপিকা হাসিনাকে আপোষহীন নেত্রী বলে খালেদা জিয়াকে ছোট করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
ওই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, নিকোল শুধু খালেদা জিয়াকে ছোট করেনি একজন খুনির পক্ষে কথা বলেছেন। যে কি-না গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত। যমুনা কর্তৃপক্ষের কাছে রোকসানা নিকোলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি৷
এদিকে, শেখ মুজিবকে দেশের প্রথম স্বৈরাচার হিসেবে মন্তব্য করেছনে বীর প্রতীক কর্ণেল হাসিনুর। মুজিব ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে দেশজুড়ে গুম, খুনের রাজত্ব কায়েম করেন বলেও জানান তিনি।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির এক প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মানে শেখ মুজিব এবং মুজিব মানে মুক্তিযুদ্ধ বানী আওড়ে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে।
একসময়ের আওয়ামী দালাল ‘ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার দোহা’য় দিয়ে আবারও মেতে উঠেছেন দোসরদের বন্দনায়। দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করলেও উপস্থাপিকা রোকসানা আনজুমান নিকোলের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি যমুনা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:








