ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাউল আবুল সরকারকে পানিতে নিয়ে নানারকম উদ্ভট আচরণ করছে তার ভক্তরা। তবে শুধু এটিই নয়। এর আগেও আবুল সরকারের বিরুদ্ধে তাকে সিজদা দেয়া কিংবা নারীদের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানোর অভিযোগও রয়েছে।
আবুল সরকারের প্রতিহিংসার শিকার একজন নারী বাউল শিল্পীর নাম হাসিনা সরকার। বাংলা এডিশনকে তিনি জানান, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাকে কোনো অনুষ্ঠানে গিয়ে গান গাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। বাউল সংঘের সদস্যরা প্রায়ই নারী শিল্পীদের সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে জাড়াতে চায়। আর এতে রাজি না হলে তাকে অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। হাসিনা নিজেও এই ধরনের কুপ্রস্তাব পেয়েছেন বলে জানান বাংলা এডিশনের কাছে।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, বাউলদের কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় তাকে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি পুলিশের ভয়ও দেখিয়েছে আবুল সরকারের লোকজন। এজন্য তিনি তার মিরপুরের বাসায়ও ঠিকমতো থাকতে পারেন না বলে জানান হাসিনা।
অন্যদিকে তার নাম হাসিনা সরকার হওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাকে আবুল সরকারের লোকজন অনেকটা জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাউল আবুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছে আলেম সমাজসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ।
হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বলা হয়েছে, আবুল যে ব্ক্তব্য দিয়েছে এরপর তিনি আর মুসলমান থাকতে পারেন না।
এমনকি আবুলরে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে ফাঁসির দাবিও জানিয়েছে হেফজতের নেতারা।
আবুলের বিরুদ্ধে বিক্ষো করেছে জুলাই মঞ্চ। ধর্ম অবমনানার দায়ে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
আল্লাহ এবং রসুলের বিরুদ্ধে অপমানজনক বক্তব্য মুসলমান সমাজ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে নামাজ বাস্তবায়ন কমিটি।
কোরআন এবং মহান আল্লাহকে নিয়ে অশালীন বক্তব্যের মাধ্যমে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে বলে মন্তব্য করেছে ঝিনাইদহের আলেম সমাজ।
অর্থাৎ, বাউল আবুলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে গোটা দেশের বিভিন্ন শ্রেনী- পেশার মানুষ। যেকোনো মূল্যে তার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে তারা।
এরপরও বরাবরের মতো আবুল সরকারের পক্ষ নিয়ে বিতর্কিত সংবাদ প্রচার করেছে প্রথম আলো। ‘আবুল সরকারঃ বিচারগানের এ কেমন বিচার’ শিরোনামে মতামত কলাম প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। ওই কলামে তওহিদী জনতাকে উগ্র মৌলবাদী বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
ইনিয়বিনিয়ে আবুলের অপকর্মের বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছে প্রথম আলো। এমনকি আবুলকে একজন কিংবদন্তী হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁর ওস্তাদরা সবাই কিংবদন্তি ছিলেন, তিনিও ইতিমধ্যেই তাই;
আবার আবুল সরকারের ধর্মপ্রাণ শ্রোতাগোষ্ঠী তাঁর গানে ধর্মের অবমাননা দেখতে পাননি, সেই কাজ কেন পুলিশ বা আদালত করতে যাবে, তৃতীয় একজন ব্যক্তির কথায়? এমন প্রশ্নও তুলা হয়েছে ওই মতামতে। অর্থাৎ আবুলের গ্রেপ্তারকে অবৈধ প্রমাণের প্রাণপণ চেষ্টাও করা হয়েছে ওই লেখার মধ্য দিয়ে।
তবে শুধে এবারই নয়, এর আগেও ইসলাম ধর্মকে আঘাত করে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। ইসলামের সাথে প্রথম আলোর কিসের এত শত্রুতা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন:








