সোমবার

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৭ মাঘ, ১৪৩২

পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি; এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:০১

আপডেট: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:০৪

শেয়ার

পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি; এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ

পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সেটি মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আশির দশকের পর পরিবহন সেক্টরে যাত্রা শুরু করেন। পার্টনারশিপে একটি পুরাতন বাস কেনার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন। দ্রুতই পরিবহন মালিকদের সংগঠনে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচিতিও সম্প্রসারিত করেন। প্রথমে বিএনপির রাজনীতিতে থাকলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ লাভ করেন।

জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে এনায়েত উল্লাহ পরিবহন সেক্টরে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা ১৬ বছর তিনি ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সব পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিবহন খাতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে পরিবহন সচল রাখার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এলেও নিজের কোম্পানির এনা ট্রান্সপোর্টের বাসগুলো রাস্তায় নামাতেন না—যা ছিল তার কৌশল।

সিআইডির অভিযোগ, এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাস মালিকদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করতেন। দৈনিক চাঁদার পাশাপাশি নেওয়া হতো মাসিক ফি। নতুন বাস রুটে নামাতে হলে দিতে হতো ২ থেকে ৫ লাখ টাকা। এমনকি নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের সেই বাসের একটি অংশ এনায়েত উল্লাহকে দিতে বাধ্য করা হতো; না দিলে বাসটি রাস্তায় চলতে পারত না।

সিআইডির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, আর উত্তোলন হয়েছে ২ হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে—

এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ৪৩টি হিসাবে জমা ৯৩৪.০৪ কোটি টাকা, উত্তোলন ৯০৬.৯৬ কোটি টাকা।

এনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের আটটি হিসাবে জমা ৪১০.৩৮ কোটি টাকা, উত্তোলন ৪০৮.২৫ কোটি টাকা।

খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ব্যক্তিগত ৭৪টি হিসাবে জমা ৪৫৯.০৮ কোটি টাকা, উত্তোলন ৪০২.৭৩ কোটি টাকা।

সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মোট ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ তাঁর পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।



banner close
banner close