বুধবার

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৮ মাঘ, ১৪৩২

সর্বশেষ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণ বসে থাকবে না: জামায়াত আমির বগুড়া-৪: বিএনপি প্রার্থী মোশারফের তিন কর্মী বিদেশী পিস্তল গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ সেনাবাহিনীর হাতে আটক জামায়াত আমিরসহ নেতাদের বিরুদ্ধে গুজব-অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান সিসি ক্যামেরার আওতায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র: ইসি ঈদের মতো জনস্রোত সদরঘাটে, নিজের ভোট নিজে দিতে পারার আশা হাসনাতের সেই ‘প্রতিদ্বন্ধি’ প্রার্থী এবার বিএনপি থেকেও বহিষ্কার সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার নীলফামারীতে ভোটের আগেই কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি

বিমানবন্দরে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা, দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র?

সুজন মাহমুদ

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৩০

আপডেট: ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৩১

শেয়ার

বিমানবন্দরে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা, দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র?
বিমানবন্দরে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন প্রায় ৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। এরইমধ্যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ফ্লাইট চলাচলসহ বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম ধীরে ধীরে আগের চেহারায় ফিরছে।

শনিবার দুপুর আড়াই টার দিকে আমদানি কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। তবে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তাৎক্ষণিক সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। বিমানবন্দরের ফাঁকা জায়গায় অতিরিক্ত বাতাসের কারণে আগুন বেশি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

এদিন ঢাকার ধামরাইয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ফ্যাক্টরিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার সন্ধ্যায় ফ্যাক্টরির ৯ নম্বর বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রথামিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাইড্রেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটায় এগুলো নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা এমন প্রশ্ন তৈরি হয় অনেকের মধ্যে। কারণ, মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে রাসায়নিক গুদামের বিস্ফোরণে পাশের একটি পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো ওই ঘটনার কারণ জানা যায়নি।

এর দু’দিন পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-সিইপিজেড অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল কারখানার বড় ধরনের আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও সাত তলা ভবনটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। এরই মধ্যে শনিবার ঢাকা বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলো।

রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস টিম থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এসব অগ্নিকাণ্ড 'নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত' হলে অথবা 'আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টির' লক্ষ্যে ঘটানো হচ্ছে বলে প্রমাণ পেলে সেগুলো 'মোকাবিলা' করা হবে। এরইমধ্যে, এই আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

এরপরও, ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। দলটি বলেছে, বিমানবন্দরের মতো এমন একটি কৌশলগত স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতির এক স্পষ্ট প্রমাণ।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার রাতে বিবৃতি দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কী আকস্মিক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, এ ব্যাপারে তারা সকলে উদ্বিগ্ন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছেন, এই দুর্ঘটনায় যদি কোনো গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা বা নাশকতার উপাদান থেকে থাকে তবে, কর্তৃপক্ষকে তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।

এই ঘটনার পেছনে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা নাকি ষড়যন্ত্র রয়েছে-এমন প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। শনিবার রাতে ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেছেন, দেশে অগ্নিকাণ্ড যেন এক অবিরাম চক্র। দুই-একদিন প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মিছিল, গরম টকশো। তারপর আবার সবকিছু নিস্তব্ধ। ঠিক আগের মতোই! অগ্নিকাণ্ডের পর শোক, তারপর সেই চিরচেনা নীরবতা!

তিনি প্রশ্ন করে আরও লিখেছেন, এগুলো কি নিছক দুর্ঘটনা? কেবল-ই অবহেলা আর অব‍্যবস্থাপনা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র? প্রথমে মিরপুর, তারপর চট্টগ্রাম ইপিজেড, এরপর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। আগুন যেন পিছু ছাড়ছে না। এ দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা চলছে কি? এমন প্রশ্নও ছুড়ে দেন এই ইসলামী চিন্তাবিদ।

পরপর এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এক বিবৃতিতে তিন বলেন, এরমধ্য দিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের সুনামহানীর কারণ হবে। একইসাথে এই ঘটনার সাথে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস দেখছে আলেম সমাজ।

এনিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে অগ্নিনির্বাপণকর্মী, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেছেন। একইসাথে আগুন লাগার কারণ উদ্ঘাটনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতেই ফ্যাসিস্টদের দোসররা জোরালোভাবে নানা ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। এ ধরনের অপকর্ম ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য দেশের আপামর মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে, কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে ২৫০ কারখানার পণ্য পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ এর সভাপতি মাহমুদ হাসান। তিনি জানান, ‘কী পরিমাণ পণ্যের ক্ষতি হয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়’শ টন পণ্য গার্মেন্ট্স পণ্য রপ্তানী হয়ে থাকে, যার কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই, সবমিলিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে ব্যবাসীয় সংগঠনগুলো।

ব্যবসায়ীরা বলছে, আগুনে পণ্য না ডলার পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি। ফলে অনেক ব্যবসীয় পথে বসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সিভিল অ্যাভিয়শন ও বিমান বাংলাদেশের গাফলতিতেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে কার্গো ভিলেজটি বলে দাবি ব্যবসায়ীর।

এই ঘটনায় বিশ্বের সামনে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের ভাবমূর্তি। এটার কারণে এখন কোনো ভায়ার আসতে চাইবে না।

এদিকে, বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বসিরউদ্দিন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রনলয়ের উপদেষ্টা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ও সংশ্লিষ্টদের বৈঠক করবেন। একইসাথে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচান করবে সরকার। এরইমধ্যে, ফ্লাইট বিপর্যয়ের মাশুল মওকুফ করা হয়েছে।

একের পর এক আগুনের ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে আঘাত হানছে বলে জানায় অনেকেই। দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ডে এমন ঘটনার পেছনরে কেউ জড়িত থাকলে, তাদের বের করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ভিডিও লিংক: https://www.youtube.com/watch?v=Rb5wc2vjOK4



banner close
banner close