বাবা ও মায়ের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান, তাদের ছেলে হত্যাকে কেন্দ্র করে।
এভাবেই, একটি কক্ষে আটকে মুসলিম শ্রমিকদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ফরিদপুর জেলার, মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নে ঘটে এই নারকীয় ঘটনা। উগ্র হিন্দুরা নির্মমভাবে পিটিয়ে সেদিন হত্যা করে, আপন দুই ভাই মো. আশরাফুল এবং আরশাদুলকে।
তবে, ঘটনার দেড় বছর পর টাকার বিনিময়ে ছেলে হত্যার বিচার বিক্রি করে দিতে চান বাবা মো. শাহজাহান।
অন্যদিকে, আপোষ নয়, ছেলে হত্যার সঠিক বিচার দাবি মায়ের। অনেক আগেই শাহজাহানের সাথে ডিভোর্স হওয়ায়, টানাপোড়েন আরো বেড়েছে আয়েশা বেগমের।
হত্যা মামলার এক নম্বর আসামী, আসাদুজ্জামান তপনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন শাহজাহানকে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। তপন, ডুমাইন ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা শাবাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ জানান, শাহজাহান লোভে পড়ে মামলার মীমাংসা চান।
যে হত্যা মামলা ধামাচাপা দেয়ার এত চেষ্টা চলছে, আমরা আরো একবার মনে করিয়ে দিতে চায় সেই নারকীয় ঘটনা। সেদিন, কী হয়েছিলো আশরাফুল এবং আরশাদুলদের সাথে?
ঘটনার দিন, পঞ্চপল্লী বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন আশরাফুল এবং আরশাদুলসহ কয়েকজন। ওই সময়, বিদ্যালয়ের বাইরের মন্দিরের প্রতিমায় আগুন দেয়াকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর আক্রমণ চালায় উগ্র হিন্দুরা।
তবে, সেদিন মন্দিরে কোনো আগুন দেয়নি মুসলিম শ্রমিকরা। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায়, নিজেরাই মন্দিরে আগুন দিয়ে, মুসলিম শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ চালায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
ওই এলাকার হিন্দুদের সাথে, চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা তপন। একইভাবে, ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন, ওই ইউনিয়নের তৎকালীন সদস্য অজিত কুমার বিশ্বাস।
সেদিনের ঘটনার এক প্রতক্ষদর্শী আমাদের কাছে তুলে ধরেন নির্যাতনের ভয়াবহতা।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় অন্ধকার নেমে আসে স্থানীয়দের জীবনে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় অনেককে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মী।
ওই সময়ে, স্থানীয় মসজিদের ইমাম জুবায়ের আহমেদ বায়োজিদকেও ফাঁসানো হয় মিথ্যা মামলায়। যে মামলার ঘানি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
এমনকি, সেসময় প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। এতে, গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেকদিন ভোগার পর মারা যান সোহেল রানা নামের এক ভ্যানচালক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তার স্ত্রী-সন্তানরা।
আশরাফুল এবং আরশাদুল হত্যার বাদী হয়ে মধুখালি থানায় মামলা করেন তাদের বাবা মো. শাহজাহান। এতে আসামী করা হয় ৮৪ জনকে। ইতোমধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এই অবস্থায়, মামলার মীমাংসা নিয়ে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ফরিদপুরে। আশরাফুল-আরশাদুলের মাসহ স্থানীয়দের দাবি বিচার। মামলার বাদী এবং পরিবারের কেউ কেউ চান আপোষ।
ভিডিও লিংক↓
আরও পড়ুন:








