বুধবার

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৯ মাঘ, ১৪৩২

পুলিশকে বাধা ও হামলার ঘটনার মামলায় বিতর্কিত চার্জশীট

রাকিব জুয়েল

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:২৪

আপডেট: ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:২৫

শেয়ার

পুলিশকে বাধা ও হামলার ঘটনার মামলায় বিতর্কিত চার্জশীট
বাংলা এডিশন

সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে , পুলিশ এক ব্যক্তিতে আটক করার সময় একদল জনতা তাদের বাধা দেয় । আর তাতেই সূত্রপাত বাকবিতন্ডা- ধস্তাধস্তির ঘটনার!

এ ঘটনা রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় এ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে , গত বারো মার্চ । পরে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেয়া হয় সেদিন । পত্রিকায় শিরোনাম হয়,' মব করে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাই '! আর সে ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করেন সতের জনের বিরুদ্ধে !

পুলিশের করা সে মামলায় সম্প্রতি আদালতে প্রদান করা হয়েছে চার্জশীট । আর তাতে, হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে আরো ষোল জনের নাম । তনন্ত শেষে আদালতে পেশ করা সে চার্জশীটে দুই নাম্বার আসামী করা হয়েছে মোঃ আনিসুর রহমান সোহগকে, তিন ও চার নাম্বার আসামী আরিফুল ইসলাম মীর সাগর ও মোঃ সোহেল শাহরিয়ারসহ এভারোজ স্কুলের বেশ কয়েকজন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নাম অন্তুর্ভূক্ত করা হয়েছে ।

অথচ ১২ মার্চের সে ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে তাদের কাউকেই দেখা যায়নি । আনিসুর রহমান জানান, সেদিন সকাল থেকেই তিনি অভিভাবকদের সাথে মির্টিং করছিলেন ক্যাম্পাসের ৬ষ্ঠ তলায় ! ঘটনার পরে তিনি বিস্তারিত জানতে পারেন সহকর্মীদের কাছ থেকে ।

মামলার চার নাম্বার আসামী সোহেল শাহরিয়ারও ছিলেন আনিসুরের সাথে সেই প্যারেন্টস মিটিং এ ।

আর তিন নাম্বার আসামী হিসেবে যায় নাম দেয়া হয়েছে সেই আরিফুল ইসলাম মীর সাগরের মায়ের ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে সেদিনই । তাই ১২ মার্চ পুরো দিনই তার কেটেছে হাসপাতালে !

পুলিশের দেয়া চার্জশীটে উল্লেখিত সাক্ষীদের কয়েকজনের কল রেকর্ডে উঠে আসে বানোয়াট সাক্ষির বিষয়টিও !

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি, সাক্ষী কিংবা আসামীদের কারো কোন অভিযোগ থাকলে আদালতে মোকাবিলার কথা জানান !

মামলার ধরন পর্যালোচনা করে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি আরিফুল ইসলাম বলছেন, পুরোটাই সাজানো এই মামলার চার্জশীটে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানো হয়েছে ।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, এ্ভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অংশীজনদের মধ্যে চলমান বিবাদের কারনেই এই মিথ্যা মামলা ! ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান সোহাগকে ফাঁসাতে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জান নাড়ছেন মূল চাবিকাঠী ! আর তারই বলি হতে হচ্ছে স্কুলটির তৃতীয় – চতুর্থ শ্রেণীর দরিদ্র কর্মচারী এমনকি এক কিশোর কর্মীকেও !

আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে । আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ ক’জন প্রভাবশালী নেতার সাথে আক্তারের সখ্যতার কারনে নানা সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবও বিস্তার করেছেন তিনি প্রতিষ্ঠানে । পুলিশ বাদি এই মামলার আসামী সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহেল শাহরিয়ার জানান, আক্তার হোসেনের আওয়ামী প্রীতির কারনে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকারও হয়েছেন তিনি !

এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকে স্বপরিবারে রাজপথে থাকা আনিসুর রহমান সোহাগকে স্বৈচারের দোসর ট্যাগ দিতে মরিয়া আক্তার হোসেনের মদদেই হচ্ছে একের পর এক মামলা, চলছে সামাজিক ও গণমাধ্যমে নানা অপপ্রচার বলে দাবি সোহাগের । ২৪ এর জুলাই মাসের শুরু থেকেই নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও বিভিন্ন সময়ের ভিডিও প্রদর্শন করে সোহাগ জানান, পুরো আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশেই থেকেছেন তিনি ।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া স্থানীয় নেতারাও জানালেন সোহাগের অবস্থানের কথা ।

শুধু তাই নয়, আনিসুর রহমান সোহাগের মানহানী করতে নানা সময়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সদন নিয়েও প্রশ্ন তোলারও অভিযোগ ওঠে ! তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তার সকল সনদ যাচাই করে পরিষ্কার জানানো হয় সেখান থেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি !

অন্যদিকে, আওয়ামী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে সিটি মেয়র কিংবা সাবেক ডিবি প্রধান হারুনসহ প্রভাবশালী বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত ওঠাবসা ছিলো আক্তারুজ্জামের । তিনিই নানা সময়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসতেন বলেও জানান এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান সোহাগ ।

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে, সরসারি আওয়ামী লীগের মদদপুষ্টতা ছাড়াও, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভূমি দস্যুতা, বেসিক ব্যাংকের ১ শো ৩৬ কোটি টাকা লোপাট, অনলাইন গ্রুপের নামে প্রতারণাসহ রাজধানীর ইসিবি চত্ত্বরে নানা অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায় ।

এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে দ্বদ্নের বলি দরিদ্র কর্মচারীরা যেমন চাইছেন নিস্তার তেমনি আক্তারুজ্জামনের নানা চক্রান্ত থেকে মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা ।

ভিডিও লিংক: https://www.youtube.com/watch?v=O5uH60ggYls



banner close
banner close