স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া চাঞ্চল্যকর এক তথ্য দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
২০২৪ সালের উত্তাল আন্দোলনের সময়কার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ডিবি হেফাজতে থাকাকালীন আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা না দিলে আমাদের হত্যার নির্দেশ ছিলো। এই হত্যার নির্দেশ এসেছিল সরাসরি শেখ হাসিনার কাছ থেকে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার সাক্ষ্যে অভিযোগ করেন, ৩২ ঘণ্টা অনশনে থাকার পর আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি চানখারপুলের ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, চাইনিজ রাইফেল, শট গান ও ছড়া গুলি ব্যবহার করে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা চানখারপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করে। এরমধ্যে আমার সামনেই দুইজন পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।
এ ঘটনায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতাদের এবং গুলি করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় গত ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে।
অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে প্রথম চারজন— সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল— বর্তমানে পলাতক।
বাকি চারজন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম— গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার পরবর্তী শুনানিতে আগামী ১৬ অক্টোবর আসিফ মাহমুদ বাকি সাক্ষ্য দেবেন।
আরও পড়ুন:








