শুক্রবার

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

গুলশানে চাঁদাবাজি: রিয়াদের দোষ স্বীকার, চার আসামি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট, ২০২৫ ২০:৫৫

শেয়ার

গুলশানে চাঁদাবাজি: রিয়াদের দোষ স্বীকার, চার আসামি কারাগারে
ছবি সংগৃহীত

ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগ গ্রেপ্তার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম সেফাতুল্লাহ ১৬৪ ধারায় রিয়াদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিবদ্ধ করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় বিচারক।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

সাত দিনের রিমান্ড শেষে এদিন রিয়াদসহ চারজনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান।

অপর তিনজন হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব।

এদের মধ্যে রিয়াদ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা নথিবদ্ধ করার জন্য এবং অপর তিনজনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রিয়াদ বাদে অপর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান।

২৬ জুলাই ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অপর চারজনের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব ছাড়াও ছিল এক শিশু।

ঘটনার সময় পালিয়ে যান বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু ওরফে কাজী গৌরব অপু।

এ ঘটনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেন শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় আসামি বৈষম্যবিরোধী নেতা রিয়াদ ও অপু গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের বাসায় যান। তখন তারা হুমকি ধামকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যায়িত করে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দেন এবং টাকা চেয়ে চাপ দিতে থাকেন তারা।

এক পর্যায়ে সিদ্দিক আবু জাফর বাধ্য হয়ে নিজের কাছে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ও ভাইয়ের কাছে থেকে নিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা দেন।

এর পর ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়াদ ও অপু বাদীর বাসায় প্রবেশ করে তার ফ্ল্যাটের দরজায় সজোরে ধাক্কা মারেন। বিষয়টি গুলশান থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে আসামিরা চলে যায়।

তার পর ২৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টায় আবার রিয়াদের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা বাদীর বাসার সামনে এসে তাকে খুঁজতে থাকেন। বাসার দারোয়ান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানান। তখন আসামিদের দাবি করা বাকি ৪০ লাখ টাকা না দিলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিবেন বলে হুমকি দিতে থাকেন।

এ মামলায় ২৭ জুলাই রিয়াদসহ চারজনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। অপর আসামি শিশু হওয়ায় কিশোর ‍উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বুধবার রিয়াদের কলাবাগের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক জব্দ করার তথ্য দেয় পুলিশ।

তার পরে বৃহস্পতিবার রিয়াদের বাড্ডার বাসা থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করার তথ্য দেন গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান।

পুলিশ বলেছে, এই অর্থ সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে ‘চাঁদা নেওয়া ১০ লাখ টাকার একটি অংশ।

সে দিন রাতে ঢাকার ওয়ারী থেকে অপুকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান জানান। শনিবার তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।



banner close
banner close